প্রেশার বা ব্লাড প্রেশার কিংবা হাই প্রেশার শব্দগুলো আমাদের কাছে এখন একদমই কমন ব্যাপার। বিশেষকরে যাদের ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন তাদের কাছে এক মুর্তিমান আতংকের নাম হাই প্রেশার। গভীর রাত কিংবা ভর দুপুর হঠাত শুনতে পেলেন বাবার শরীরটা কেমন করছে। ঘেমে নেয়ে একাকার। অস্থির লাগছে। কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ফোনে কেউ পরামর্শ দিলো জলদি প্রেশার মেপে দেখুন। কিন্তু আপনার ঘরেতো প্রেশার মেশিন নেই। খুব আফসোস হচ্ছে কেন একটি ডিজিটাল BP machine আপনি কিনে রাখলেন না।
এরকম পরিস্থিতিতে কেবল আপনি একা না আমরা কমবেশি অনেকেই পরি। তাইতো আজকের এই লেখার মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করতে চাই যে কিভাবে আমরা ঘরে বসে নিজের প্রেশার নিজেই মাপতে পারি।
প্রেশার নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা
প্রেশার নিয়ে আমাদের ভিতর একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে যে "আমার প্রেশার নাই"। কথাটা একদম সঠিক নয়। মানুষ মাত্রই প্রেশার থাকবে। আমরা যখন শ্বাস নেই ও প্রশ্বাস ছাড়ি তখন রক্ত নালিতে রক্ত চলাচলের কারণে একটা চাপের সৃষ্টি হয়। এটাকেই ব্লাড প্রেশার বলা হয়। এই চাপের একটা স্বাভাবিক মাত্রা আছে। যদি মাত্রা বেশি হয়ে যায় তাহলে আমরা একে হাই ব্লাড প্রেশার বলি আর যদি মাত্রা কমে যায় তাহলে একে আমরা লো প্রেশার বলি। আশা করি ব্লাড প্রেশারের ব্যাপারটা বোঝা গেছে।
কিভাবে বুঝবেন যে আপনার প্রেশারে গন্ডগোল আছে?
স্বাভাবিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করলে এবং শরীরে অন্য কোন রোগ না থাকলে প্রেশারে তেমন ঝামেলা হয়না। কিন্তু আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনে অনিয়মই যেন এখন নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। সবথেকে বেশি অনিয়ম হয় খাবারে। দিন দিন আমরা অতিমাত্রায় বাহিরের খাবারের দিকে ঝুঁকছি।পিৎজ্জা, পাস্তা, বার্গার, কোল্ড ড্রিংকস, রাস্তার পাশের স্ট্রীটফুডের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে বেশি।ফুড ডেলিভারী কোম্পানীর লোভনীয় অফার লুফে নিতে অনেকেই বাসায় রান্না না করে বাহির থেকে অর্ডার করে এনে ঘরে বসে খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এসব খাবার রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। আর উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
তাহলে কিভাবে বুঝবেন যে আপনার প্রেশার নিয়ন্ত্রনে নেই?
আসলে এমন কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নেই যা দেখে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে আপনার প্রেশার হাই কিংবা লো হয়ে গেছে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ আছে যা দেখে আমরা ধারণা করি যে প্রেশারে কোন একটা ঝামেলা হচ্ছে।
চোখের সমস্যা:
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে কেউ যদি হঠাৎ করে চোখের সমস্যা বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা বোধ করেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রেশার মেপে দেখতে হবে। কারণ ব্লাড প্রেশারের কারণে চোখের সমস্যা হতে পারে।
মাথার যন্ত্রণা:
প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করা, মাথা গরম হয়ে যাওয়া কিংবা মাথা ঘোরানো সবগুলোই উচ্চ রক্তচাপের কারনে হতে পারে। তাই এরকম পরিস্থিতিতে প্রাথমিক অবস্থায় প্রেশার মেপে দেখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
ঘাড় ব্যথা করা:
হাই ব্লাড প্রেশারের অন্যতম একটি লক্ষন হচ্ছে "ঘাড় ব্যাথা করা"। হঠাৎ করে যদি ঘাড়ে ব্যাথা অনুভূত হয়, ঘাড় নাড়াতে গেলে ভার ভার লাগে মোদ্দাকথা ঘাড় মুভমেন্টে অস্বস্তি হয় তাহলে সবার আগে করনীয় হচ্ছে প্রেশার মাপা।
বুকে ব্যথা:
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও ব্লাড প্রেসার সংক্রান্ত সমস্যার ইঙ্গিত। যদি হঠাৎ খিঁচুনি বা শরীরের লাল দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটিও হতে পারে এই সমস্যার উপসর্গ।
শ্বাসকষ্ট:
যাদের শরীর ওজনে ভারী কিংবা বয়স ৪০ এর অধিক তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে হাঁটার সময় বা ভারি জিনিস তুলতে গেলে অথবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামার সময়ে শ্বাসকষ্টে ভোগেন। শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। বুক ধরপর করে। এগুলো সবই উচ্চরক্তচাপের ইংগিত দেয়।
মেজাজ খিটখিটে হওয়া:
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা অল্পতেই রেগে যায়, মেজাজ খিটখিটে থাকে তাদের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বেশি।
রাতে ভালো ঘুম না হওয়া:
বর্তমান টেকনোলজির যুগে আমাদের হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকে। গবেষণায় উঠে এসেছে যে রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ঘুমের সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করা। আর এই ঘুম না হওয়ার কারণে দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা।
উপরের সমস্যাগুলো থেকে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমরা একটা ধারণা পেয়েছি। সাথে সাথে এটাও দেখতে পেয়েছি যে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা কতটা গুরুত্বপুর্ন।
কিন্তু সবসময় আমাদের পক্ষে বাইরে গিয়ে কিংবা কারো সাহায্য নিয়ে প্রেশার মাপা সম্ভব হয়না। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান হতে পারে ঘরে বসেই নিজের প্রেশার নিজে মেপে নেয়া। বাজারে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের, বিভিন্ন দামের ও মডেলের Digital BP machine পাওয়া যাও। ডিজিটাল ডিসপ্লে থাকার কারণে খুব সহজেই যে কেউ ২/৩ মিনিটের ভিতরে এই মেশিনের সাহায্যে প্রেশার মাপতে পারেন।

Comments
Post a Comment